বাংলাদেশে ফার্নিচারের দাম কত? ২০২৬ সালের আনুমানিক মূল্যতালিকা

নতুন বাসা সাজানো, পুরোনো আসবাব বদলানো কিংবা অফিসের জন্য নতুন ফার্নিচার কেনা—শুরুতেই একটা প্রশ্ন আসে, বাংলাদেশে ফার্নিচারের দাম কত? এর এক কথায় উত্তর দেওয়া কঠিন। একই ধরনের একটি সোফা ৩০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে, আবার উন্নত কাঠামো, ভালো ফেব্রিক ও কাস্টম ডিজাইনের কারণে দাম কয়েক লাখ টাকাও হতে পারে।

খাট, ডাইনিং টেবিল, ওয়ারড্রোব কিংবা অফিস ডেস্কের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। উপকরণ, সাইজ, ডিজাইন, ফিনিশিং, হার্ডওয়্যার এবং কোথায় তৈরি হচ্ছে—এসবের ওপর শেষ দাম নির্ভর করে। এই গাইডে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন হোম ও অফিস ফার্নিচারের আনুমানিক মূল্যসীমা, দামের পার্থক্যের কারণ এবং কেনার আগে যে বিষয়গুলো দেখা দরকার, সেগুলো সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশে ফার্নিচার কেনার সময় শুধু দাম নয়, কাঠ বা বোর্ডের মান, ফোম, কাপড়, হার্ডওয়্যার ও ফিনিশিংও দেখা দরকার। সোফা, খাট, ডাইনিং টেবিল, ওয়ারড্রোব বা অফিস ফার্নিচারের আনুমানিক বাজারদর জানা থাকলে বাজেট অনুযায়ী টেকসই ও ব্যবহার উপযোগী পণ্য বেছে নেওয়া সহজ হয়।

বাংলাদেশে ফার্নিচারের দাম যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশে ফার্নিচারের আনুমানিক দাম

বাংলাদেশে ফার্নিচারের দাম পণ্যের ধরন, উপকরণ, সাইজ, ডিজাইন ও ফিনিশিং অনুযায়ী বেশ পরিবর্তিত হয়। সাধারণ রেডিমেড ফার্নিচার থেকে শুরু করে কাস্টম ও প্রিমিয়াম কাজ—বাজেটের পরিসরও তাই অনেক বড়।

ফার্নিচারের ধরন ২০২৬ সালের আনুমানিক মূল্যসীমা
সোফা সেট ৳৩০,০০০–৳৭,০০,০০০+
খাট ৳৫০,০০০–৳২,০০,০০০+
৬ চেয়ার ডাইনিং টেবিল ৳২০,০০০–৳২,২৫,০০০+
ওয়ারড্রোব ৳২৫,০০০–৳১,৮০,০০০+
ড্রেসিং টেবিল ৳৮,০০০–৳১,০০,০০০+
আর্মচেয়ার ৳১৮,০০০–৳৬৫,০০০+
অফিস চেয়ার ৳৪,৮০০–৳২০,০০০+
অফিস টেবিল ৳১৫,০০০–৳১,২০,০০০+
নোট: এগুলো ২০২৬ সালের আনুমানিক মূল্যধারণা। ব্র্যান্ড, কাঠ বা বোর্ডের গ্রেড, সাইজ, ডিজাইন, কাস্টমাইজেশন, হার্ডওয়্যার ও ফিনিশিং অনুযায়ী দাম কম বা বেশি হতে পারে। কাস্টম ফার্নিচারের সঠিক দাম জানতে রুমের মাপ ও পছন্দের ডিজাইন অনুযায়ী কোটেশন নেওয়া ভালো।

ফার্নিচারের দামের পার্থক্য হয় কেন?

দেখতে প্রায় একই রকম দুটি ফার্নিচারের দাম এক নাও হতে পারে। বাইরে থেকে পার্থক্য কম দেখা গেলেও ভেতরের কাঠামো, উপকরণ কিংবা হার্ডওয়্যারে বড় পার্থক্য থাকতে পারে।

ব্যবহৃত কাঠ বা বোর্ড

সলিড কাঠ, প্লাইউড, এমডিএফ, পার্টিকেল বোর্ড এবং ইঞ্জিনিয়ার্ড বোর্ডের দাম ও স্থায়িত্ব এক নয়। ভালো মানের সিজনড কাঠ, উন্নত গ্রেডের প্লাইউড বা আর্দ্রতা-সহনশীল বোর্ড ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। শুধু উপকরণের নাম দেখলেই হবে না। বোর্ডের পুরুত্ব, কাঠের ট্রিটমেন্ট, প্রান্ত সিল করার মান এবং ফিনিশিংও দেখতে হবে।

মাপ ও নকশা

বড় এল-শেপড সোফা তৈরিতে দুই আসনের একটি সোফার তুলনায় অনেক বেশি কাঠামো, ফোম ও কাপড় লাগে। একইভাবে বড় ওয়ারড্রোব, কিং-সাইজ খাট কিংবা ছয় বা আট চেয়ারের ডাইনিং সেটে বেশি উপকরণ প্রয়োজন হয়। বাঁকানো নকশা, কাঠের কারুকাজ, কাপড়-মোড়ানো হেডবোর্ড, গোপন স্টোরেজ, আলোযুক্ত আয়না কিংবা বিশেষ হার্ডওয়্যার যোগ হলে দাম আরও বাড়তে পারে।

কাপড়, ফোম ও হার্ডওয়্যার

সোফা ও আর্মচেয়ারের দামে কাপড়ের ধরন, ফোমের ঘনত্ব এবং বসার আরাম বড় ভূমিকা রাখে। ওয়ারড্রোব বা ক্যাবিনেটের ক্ষেত্রে কবজা, ড্রয়ার চ্যানেল, হাতল, তালা এবং স্লাইডিং ব্যবস্থার মানও দামের ওপর প্রভাব ফেলে।

রেডিমেড নাকি কাস্টম

রেডিমেড ফার্নিচার আগে থেকেই নির্দিষ্ট মাপ ও নকশায় তৈরি থাকে। তাই অনেক সময় তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। অন্যদিকে কাস্টম ফার্নিচার রুমের মাপ, প্রয়োজনীয় স্টোরেজ, উপকরণ, রং, নকশা ও ফিনিশিং অনুযায়ী আলাদাভাবে তৈরি হয়। ফলে এর দাম আপনার প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশে সোফা সেটের দাম

বাংলাদেশে একটি সোফা সেটের দাম প্রায় ৳৩০,০০০ থেকে শুরু হতে পারে। বড় সেকশনাল সোফা, এল-শেপড সোফা, উন্নত মানের কাপড় বা সম্পূর্ণ কাস্টম বিলাসবহুল সোফার ক্ষেত্রে দাম কয়েক লাখ টাকায় যেতে পারে। শুধু বাইরের কাপড় দেখে সোফা কেনা ঠিক নয়। ভেতরের ফ্রেম ও ফোমের মানও জেনে নিন। সোফার দাম নির্ধারণে সাধারণত দেখা হয়:

  • মোট মাপ ও আসনসংখ্যা
  • ভেতরের কাঠের ফ্রেম
  • ফোমের ঘনত্ব ও মান
  • কাপড় বা কৃত্রিম চামড়া
  • হাত রাখার অংশ ও পিঠের নকশা
  • অতিরিক্ত বসার অংশ
  • সেলাই ও ফিনিশিং
  • কাস্টম মাপ

বাংলাদেশে খাটের দাম

বাংলাদেশে একটি সাধারণ বা কাস্টম খাটের দাম প্রায় ৳৫০,০০০ থেকে ৳২,০০,০০০ বা তার বেশি হতে পারে। কিং-সাইজ খাট, সলিড কাঠের ফ্রেম, কাপড়-মোড়ানো হেডবোর্ড বা স্টোরেজ যুক্ত হলে দাম সাধারণত বেশি হয়। ঘর ছোট হলে শুধু বড় খাট পছন্দ করলেই হবে না। খাটের চারপাশে চলাচলের জায়গাও হিসাব করতে হবে। দাম বাড়াতে পারে এমন কয়েকটি বিষয়:

  • হাইড্রোলিক স্টোরেজ
  • ড্রয়ার স্টোরেজ
  • বড় কাপড়-মোড়ানো হেডবোর্ড
  • সলিড কাঠের কাঠামো
  • কাস্টম ওয়াল প্যানেল
  • মিলিয়ে তৈরি বেডসাইড টেবিল
  • উন্নত পলিশ বা ল্যামিনেট
বাংলাদেশে খাটের দাম

ডাইনিং টেবিলের দাম

বাংলাদেশে একটি ৬ চেয়ারের ডাইনিং সেট প্রায় ৳২০,০০০ থেকে শুরু হতে পারে। উপকরণ ও নকশা অনুযায়ী প্রিমিয়াম সেটের দাম ৳২ লাখের বেশিও হতে পারে। বাংলাদেশে ছয় চেয়ার ডাইনিং টেবিলের দাম সাধারণত ৳২০,০০০ থেকে ৳১,২০,০০০ বা তার বেশি।

ডাইনিং টেবিলের ধরন আনুমানিক দাম
কাচের ওপরের অংশযুক্ত ডাইনিং সেট ৳২০,০০০–৳৫০,০০০+
মার্বেল বা পাথরের ওপরের অংশযুক্ত ডাইনিং সেট ৳৪৫,০০০–৳১,২০,০০০+
সলিড কাঠের ডাইনিং সেট ৳৬০,০০০–৳২,২৫,০০০+
নোট: মাপ, চেয়ারের নকশা, টেবিলের ওপরের অংশের উপকরণ, নিচের কাঠামো ও ফিনিশিং অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হয়। ডাইনিং টেবিলের মাপ নেওয়ার সময় শুধু টেবিলের জায়গা হিসাব করবেন না। চেয়ার পেছনে টেনে বসার জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে।

বাংলাদেশে ওয়ারড্রোবের দাম

ওয়ারড্রোবের দাম শুধু এর মাপের ওপর নির্ভর করে না। দরজার সংখ্যা, ভেতরে তাক ও কাপড় ঝোলানোর জায়গা, ড্রয়ার, লকার, আয়না এবং ব্যবহৃত কাঠ বা বোর্ডের মান—সবকিছু মিলিয়েই দাম নির্ধারিত হয়। সাধারণ কবজাযুক্ত দরজার তুলনায় স্লাইডিং দরজার ওয়ারড্রোবে আলাদা রেল ও হার্ডওয়্যার প্রয়োজন হওয়ায় খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে। আবার ঘরের পুরো দেয়াল ব্যবহার করে কাস্টম ওয়ারড্রোব তৈরি করলে মাপ, স্টোরেজের বিন্যাস, ফিনিশিং এবং অতিরিক্ত সুবিধা অনুযায়ী দাম আরও পরিবর্তিত হয়।

ওয়ারড্রোবের ধরন আনুমানিক দাম
সাধারণ দরজার ওয়ারড্রোব ৳২৫,০০০–৳৭০,০০০+
স্লাইডিং দরজার ওয়ারড্রোব ৳৪৫,০০০–৳১,২০,০০০+
আয়নাযুক্ত ওয়ারড্রোব ৳৩৫,০০০–৳৯৫,০০০+
কাস্টম বিল্ট-ইন ওয়ারড্রোব ৳৭০,০০০–৳১,৮০,০০০+
নোট: বিল্ট-ইন ওয়ারড্রোবের খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে ছোট শোবার ঘর কিংবা অস্বাভাবিক মাপের দেয়ালের জায়গা কাজে লাগানোর জন্য এটি বেশ কার্যকর। তাক, কাপড় ঝোলানোর অংশ, ড্রয়ার ও লকার আগে থেকেই পরিকল্পনা করলে ব্যবহারেও সুবিধা হয়।

বাংলাদেশে ড্রেসিং টেবিলের দাম

একটি সাধারণ ড্রেসিং টেবিলের দাম প্রায় ৳৮,০০০ থেকে শুরু হতে পারে। বড় আয়না, বেশি ড্রয়ার, আলো, উন্নত বোর্ড বা কাস্টম নকশা যোগ হলে দাম ৳১,০০,০০০ বা তার বেশিও হতে পারে। ছোট শোবার ঘরের ক্ষেত্রে খুব বড় ড্রেসিং টেবিল না নিয়ে কমপ্যাক্ট বা দেয়ালে বসানো নকশা অনেক সময় বেশি কাজে দেয়। ড্রেসিং টেবিলের দাম সাধারণত নির্ভর করে:

  • টেবিলের মাপ
  • আয়নার ধরন
  • ড্রয়ার ও স্টোরেজ
  • কাঠ বা বোর্ড
  • আলো
  • হার্ডওয়্যার
  • ফিনিশিং

অফিস ফার্নিচারের দাম

অফিস ফার্নিচারের দাম শুধু নকশা বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে না। কী ধরনের কাজে ফার্নিচার ব্যবহার হবে, প্রতিদিন কত সময় ব্যবহার করা হবে, কতটুকু স্টোরেজ দরকার এবং অফিসে কতটা জায়গা আছে—এসব বিষয়ও দামের ওপর প্রভাব ফেলে। কর্মীদের জন্য সাধারণ টেবিল-চেয়ার, ব্যবস্থাপকের কক্ষ, সভাকক্ষ কিংবা একাধিক কর্মীর জন্য ওয়ার্কস্টেশন—প্রতিটির প্রয়োজন আলাদা। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় আরাম করে কাজ করার সুবিধা, ব্যবহৃত উপকরণ, হার্ডওয়্যার ও ফিনিশিংয়ের মান অনুযায়ীও অফিস ফার্নিচারের দাম কম বা বেশি হতে পারে।

অফিস চেয়ারের দাম

অফিস চেয়ার কেনার সময় শুধু নকশা বা বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখলেই হবে না। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বসে কাজ করতে হলে পিঠে ঠিকভাবে সহায়তা দেয় কি না, আসনের উচ্চতা সামঞ্জস্য করা যায় কি না, হাত রাখার অংশ আরামদায়ক কি না এবং চাকা ও ঘোরানোর ব্যবস্থা সহজে কাজ করে কি না—এসব বিষয়ও দেখা দরকার। ভালো মানের অফিস চেয়ার শরীরের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় কাজের সময় বসার আরাম বজায় রাখে। তাই চেয়ার বেছে নেওয়ার সময় ব্যবহারকারীর উচ্চতা, কাজের ধরন এবং দৈনিক কতক্ষণ বসতে হবে, সেগুলোও বিবেচনায় রাখা উচিত।

অফিস চেয়ারের ধরন আনুমানিক দাম
সাধারণ অফিস চেয়ার ৳৪,৮০০–৳৬,০০০
কনফারেন্স চেয়ার ৳৮,৩০০–৳৯,৯০০
ম্যানেজার চেয়ার ৳১৭,৫০০–৳২০,০০০+

অফিস টেবিলের দাম

কাস্টম অফিস টেবিলের দাম মূলত মাপ, উপকরণ, নকশা এবং প্রয়োজনীয় সুবিধার ওপর নির্ভর করে। সাধারণ টেবিলের তুলনায় ড্রয়ার, স্টোরেজ ক্যাবিনেট, তার গুছিয়ে রাখার ব্যবস্থা, ফাইল রাখার আলাদা অংশ কিংবা ছোট মিটিংয়ের জায়গা যোগ করলে খরচ বাড়তে পারে। আবার একাধিক কম্পিউটার, মনিটর বা অফিস সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে টেবিল তৈরি করতে হলে মাপ ও কাঠামোও বদলাতে হয়। তাই কাস্টম অফিস টেবিল তৈরির আগে কাজের ধরন, প্রয়োজনীয় স্টোরেজ এবং ঘরে থাকা জায়গা বিবেচনা করে নকশা ঠিক করা ভালো।

অফিস টেবিলের ধরন আনুমানিক দাম
সাধারণ অফিস টেবিল ৳১৫,০০০–৳৩০,০০০
এক্সিকিউটিভ টেবিল ৳৩০,০০০–৳৫৫,০০০
কাস্টম অফিস টেবিল ৳২৫,০০০–৳১,২০,০০০+

সলিড কাঠ নাকি বোর্ডের ফার্নিচার: কোনটি ভালো?

সলিড কাঠ নাকি বোর্ডের ফার্নিচার ভালো—এটি নির্ভর করে আপনার বাজেট, ব্যবহারের ধরন, ঘরের পরিবেশ, পছন্দের নকশা এবং কতদিন ব্যবহার করতে চান তার ওপর। শুধু উপকরণের নাম দেখে সিদ্ধান্ত নিলে অনেক সময় সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না। কাঠ বা বোর্ডের মান, পুরুত্ব, ট্রিটমেন্ট, ফিনিশিং এবং আর্দ্রতা প্রতিরোধের ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই কেনার আগে প্রতিটি উপকরণের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা বুঝে নেওয়া ভালো।

১. সলিড কাঠ

সলিড কাঠের ফার্নিচার সাধারণত শক্ত, ভারী এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য উপযোগী। ভালোভাবে শুকানো ও ট্রিটমেন্ট করা কাঠ দিয়ে তৈরি খাট, ডাইনিং টেবিল, আলমারি বা সোফার ফ্রেম নিয়মিত ব্যবহারের চাপ ভালোভাবে সহ্য করতে পারে। সময়ের সঙ্গে পালিশ বা ফিনিশিং নতুন করেও নেওয়া যায়। তবে ভালো মানের সলিড কাঠের দাম তুলনামূলক বেশি এবং ওজন বেশি হওয়ায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো কিছুটা কঠিন হতে পারে।

২. প্লাইউড

ভালো মানের প্লাইউড শক্তি, স্থায়িত্ব ও বাজেটের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য দেয়। খাট, ক্যাবিনেট, ওয়ারড্রোব, ড্রয়ার এবং বিভিন্ন ধরনের কাস্টম ফার্নিচারে এটি ব্যবহার করা হয়। সঠিক গ্রেড ও পর্যাপ্ত পুরুত্বের প্লাইউড ব্যবহার করলে ভালো স্থায়িত্ব পাওয়া যায়। তবে খুব কম মানের বা পাতলা প্লাইউড ব্যবহার করলে সময়ের সঙ্গে বাঁকা হওয়া বা স্তর আলাদা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩. এমডিএফ ও ইঞ্জিনিয়ার্ড বোর্ড

এমডিএফ ও ইঞ্জিনিয়ার্ড বোর্ড দিয়ে আধুনিক নকশার ফার্নিচার তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচে তৈরি করা যায়। মসৃণ পৃষ্ঠ থাকার কারণে ল্যামিনেট, রং ও বিভিন্ন ধরনের ফিনিশিং সহজে করা যায়। ক্যাবিনেট, শেলফ, ড্রেসিং টেবিল, টিভি ইউনিট এবং হালকা ব্যবহারের ফার্নিচারে এগুলো বেশ প্রচলিত। তবে বোর্ডের মান, পুরুত্ব, প্রান্ত সিল করা এবং আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা ভালো না হলে স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে।

রেডিমেড নাকি কাস্টম ফার্নিচার কিনবেন?

দুই ধরনের ফার্নিচারেরই সুবিধা আছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রুমের মাপ, বাজেট এবং ব্যবহারের প্রয়োজন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন। কাস্টম মানেই সবসময় বেশি দাম—এটি ঠিক নয়। নকশা ও উপকরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই বাজেটের মধ্যে কাজ করা সম্ভব।

রেডিমেড ফার্নিচার ভালো হতে পারে যখন:

  • দ্রুত ফার্নিচার প্রয়োজন
  • সাধারণ মাপের ঘরে সহজে বসে
  • বাজেট সীমিত
  • বিশেষ স্টোরেজ প্রয়োজন নেই
  • শোরুমে দেখে কিনতে চান

কাস্টম ফার্নিচার ভালো হতে পারে যখন:

  • রুমের মাপ অস্বাভাবিক
  • জায়গা সীমিত
  • নির্দিষ্ট ইন্টেরিয়র নকশা অনুসরণ করতে চান
  • বেশি স্টোরেজ প্রয়োজন
  • উপকরণ ও ফিনিশিং নিজে বেছে নিতে চান
  • অফিস বা বাণিজ্যিক জায়গার জন্য বিশেষ বিন্যাস দরকার

ফার্নিচার কেনার আগে যা দেখবেন

ফার্নিচার কেনার আগে শুধু দাম তুলনা করলেই হবে না। ব্যবহৃত কাঠ বা বোর্ডের মান, সঠিক মাপ, ভেতরের কাঠামো, ফিনিশিং, হার্ডওয়্যার এবং কতদিন ব্যবহার করা যাবে—এসব বিষয়ও দেখে নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে পরিবহন, স্থাপন এবং বিক্রয়-পরবর্তী সেবা সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা থাকলে বাজেট অনুযায়ী ভালো ফার্নিচার বেছে নেওয়া সহজ হয়।

  • রুমের সঠিক মাপ নিন: শুধু দেয়ালের দৈর্ঘ্য নয়। দরজা, জানালা, চলাচলের জায়গা, লিফট, সিঁড়ি এবং ফার্নিচার ভেতরে নেওয়ার পথও হিসাব করুন।
  • উপকরণের বিবরণ জানুন: কোন ধরনের কাঠ, বোর্ড, ফোম, কাপড় ও হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে জেনে নিন। কাস্টম ফার্নিচার হলে কোটেশনে এসব তথ্য লিখিত থাকা ভালো।
  • মোট খরচ নিশ্চিত করুন: মূল দামের সঙ্গে পরিবহন, স্থাপন, কাস্টমাইজেশন এবং ভ্যাট যুক্ত হবে কি না, আগে জেনে নিন।
  • বাস্তব নমুনা দেখুন: মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দায় দেখা রং বাস্তবে কিছুটা আলাদা হতে পারে। সম্ভব হলে কাপড়, ল্যামিনেট, ভিনিয়ার বা পলিশের বাস্তব নমুনা দেখে সিদ্ধান্ত নিন।
  • বিক্রয়-পরবর্তী সেবা যাচাই করুন: কবজা, ড্রয়ার, সেলাই, সমতলতা বা ফিনিশিংয়ে সমস্যা হলে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের সহায়তা দেয়, সেটিও কেনার আগে জেনে রাখুন।

ফার্নিচার কিনতে কেন ট্রেন্ডি ফার্নিচার লিমিটেড কে বেছে নিবেন?

ট্রেন্ডি ফার্নিচার লিমিটেড ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে বাসা, অফিস ও বাণিজ্যিক স্থানের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফার্নিচার তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির সাভারে নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে। রেডিমেড পণ্যের পাশাপাশি রুমের মাপ ও ব্যবহার অনুযায়ী কাস্টম ফার্নিচার তৈরি করা যায়। সোফা, খাট, ডাইনিং টেবিল, ওয়ারড্রোব, অফিস চেয়ার, অফিস টেবিল, ক্যাবিনেট ও স্টোরেজ ফার্নিচার—বিভিন্ন ধরনের কাজ একই জায়গা থেকে পরিকল্পনা করা সম্ভব।

কাস্টম কাজের ক্ষেত্রে গ্রাহক নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী মাপ, উপকরণ, স্টোরেজ, রং ও ফিনিশিং নির্বাচন করতে পারেন। ট্রেন্ডি ফার্নিচার বেছে নেওয়ার কয়েকটি কারণ:

  • ২০০৮ সাল থেকে ফার্নিচার তৈরির অভিজ্ঞতা
  • সাভারে নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা
  • বাসা ও অফিসের জন্য কাস্টম নকশা
  • রুমের মাপ অনুযায়ী ফার্নিচার তৈরি
  • উপকরণ ও ফিনিশিং বেছে নেওয়ার সুযোগ
  • প্রয়োজন অনুযায়ী স্টোরেজ পরিকল্পনা
  • আবাসিক ও বাণিজ্যিক ফার্নিচার সমাধান
  • পরিবহন ও স্থাপন সহায়তা
  • বিক্রয়-পরবর্তী সহায়তা

বাংলাদেশে ফার্নিচারের দাম নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশে ফার্নিচার কিনতে গেলে দাম, উপকরণ, কাস্টম নকশা এবং স্থায়িত্ব নিয়ে অনেক প্রশ্ন আসে। নিচে সবচেয়ে সাধারণ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।

বাংলাদেশে একটি ভালো সোফা সেটের দাম কত?

একটি ভালো মানের সোফা সেটের দাম সাধারণত ৳৩০,০০০ থেকে শুরু হতে পারে। বড় মাপ, উন্নত কাপড়, সলিড কাঠের ফ্রেম, ভালো ফোম এবং কাস্টম নকশা থাকলে দাম কয়েক লাখ টাকায় যেতে পারে। চূড়ান্ত দাম জানতে মাপ ও প্রয়োজন অনুযায়ী কোটেশন নেওয়া ভালো।

একটি ডাবল খাটের দাম কত?

উপকরণ ও নকশা অনুযায়ী একটি ডাবল খাটের দাম প্রায় ৳৫০,০০০ থেকে ৳২,০০,০০০ বা তার বেশি হতে পারে। সলিড কাঠ, কাপড়-মোড়ানো হেডবোর্ড, হাইড্রোলিক স্টোরেজ, কাস্টম ওয়াল প্যানেল বা উন্নত ফিনিশিং থাকলে দাম বাড়ে।

ছয় চেয়ারের ডাইনিং টেবিলের দাম কত?

একটি ৬ চেয়ারের ডাইনিং সেট প্রায় ৳২০,০০০ থেকে শুরু হতে পারে। কাঠ, মার্বেল বা পাথরের ওপরের অংশ, চেয়ারের নকশা, মাপ ও ফিনিশিং অনুযায়ী প্রিমিয়াম সেটের দাম ৳২ লাখের বেশিও হতে পারে।

বোর্ডের ফার্নিচার কি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়?

হ্যাঁ। ভালো মানের বোর্ড, পর্যাপ্ত পুরুত্ব, ঠিকভাবে প্রান্ত সিল করা এবং আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষা থাকলে বোর্ডের ফার্নিচার দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। তবে নিয়মিত পানি বা অতিরিক্ত আর্দ্রতার সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা দরকার।

কাস্টম ফার্নিচার কি বেশি দামি?

সবসময় নয়। কাস্টম ফার্নিচারের দাম মাপ, নকশা, উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় সুবিধার ওপর নির্ভর করে। প্রয়োজন অনুযায়ী উপকরণ ও নকশা নির্বাচন করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে বাজেটের মধ্যেও ভালো মানের ফার্নিচার তৈরি করা সম্ভব।

ফার্নিচারের সঠিক দাম কীভাবে জানবেন?

প্রয়োজনীয় ফার্নিচারের ছবি বা নকশার নমুনা, সঠিক মাপ, পছন্দের উপকরণ, রং, স্টোরেজের প্রয়োজন এবং বাজেট জানিয়ে কোটেশন নিন। পরিবহন, স্থাপন, ওয়ারেন্টি এবং ফিনিশিংয়ের খরচ কোটেশনের মধ্যে আছে কি না, সেটিও আগে নিশ্চিত করুন।

Top